ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষা

সংক্ষেপে দেশ পরিচিতিঃ
ফ্রান্স পশ্চিম ইউরোপের একটি সেঞ্জেনভুক্ত দেশ। রাজধানী প্যারিস দেশের বৃহত্তম শহর এবং প্রধান সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সাথে একটি একক আধা-রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্র। প্যারিস কে বলা হয় “দ্যা সিটি অব লাভ” । দেশটির অফিসিয়াল ভাষা ফ্রেঞ্চ। আয়তন ৬৪৩,৮০১ বর্গ কিঃমিঃ ও লোকসংখ্যা ৬৬,৯৯১,০০০। মুদ্রা ইউরো এবং সিএফপি ফ্রান্চ। এর চারপাশের দেশগুলো হচ্ছে বেলজিয়াম, জার্মানি, লুক্সেম্বুরগ, সুইজারল্যান্ড, ইতালি, মোনাকো, স্পেন, এন্ডোরা এবং যুক্তরাজ্য।
শিক্ষার মান ও গ্রহণযোগ্যতাঃ
ফ্রান্সের শিক্ষার মান খুবই উন্নত এবং এর ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ফ্রান্সে অনেক ইউনিভার্সিটি রয়েছে যেগুলো রেঙ্কিং এ অনেক এগিয়ে। ফ্রান্সের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারনত ফ্রেঞ্চ ভাষায় পড়াশোনা করানো হয়। অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানে ইংরেজিতে পড়াশোনা করা যায়। তাই ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী হলে ফ্রেঞ্চ ভাষার উপর ভালো দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
ফ্রান্সের কয়েকটি বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি হচ্ছেঃ



ইউনিভার্সিটিতে আবেদন (যোগ্যতা, সময় ও প্রক্রিয়া )
ইউনিভার্সিটি/কলেজ এ আবেদনের সময় ও প্রক্রিয়াঃ
ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটিতে বিদেশী শিক্ষার্থীরা সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত অ্যাপ্লাই করতে পারে, সময় ইউনিভার্সিটি/কোর্সভেদে ভিন্ন হতে পারে।
ইউনিভার্সিটিতে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসঃ
  • পূরণকৃত অ্যাপ্লিকেশান ফর্ম
  • ইংরেজি ভাষা দক্ষতার সার্টিফিকেট, যেমনঃ IELTS/TOEFL (ইংরেজি মাধ্যমের জন্য)
  • এসএসসি ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট
  • এইচএসসি ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট
  • ব্যাচেলর ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট (মাস্টার্স এ অ্যাপ্লাই করতে)
  • মাস্টার্স ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট (পিএইচডি এর জন্য)
  • পাসপোর্ট কপি
  • জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট কপি
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি
বিঃদ্রঃ ইউনিভার্সিটিভেদে ডকুমেন্টসলিস্ট ও যোগ্যতাসমূহ ভিন্ন হতে পারে। তাই অ্যাপ্লাই এর পূর্বে অবশ্যই ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত জেনে নিবেন। অনেক সময় ইংরেজি ভাষা দক্ষতার কোন প্রমাণ না থাকলে কোন কোন ইউনিভার্সিটি অনলাইনে ইংরেজির উপর পরীক্ষা নিতে পারে এবং রচনাও লিখতে বলা হতে পারে।

আপনার অ্যাপ্লিকেশান গ্রহণযোগ্য হলে আপনাকে ভর্তির যোগ্যতাসমূহ পূরণ করে তাদেরকে টিউশন ফি পে করতে হবে।

টিউশন ফিঃ
ফ্রান্সে ইউনিভার্সিটি বা কোর্স ভেদে টিউশন ফি প্রতি সেমিস্টারে ৩০০ – ১০০০ ইউরো হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু প্রোগ্রাম/কোর্স/ইউনিভার্সিটি তে টিউশন ফি আরও বেশি হতে পারে।
স্কলারশিপঃ
ভিসা সংক্রান্ত তথ্য



ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসঃ
  • বৈধ পাসপোর্ট
  • ২ কপি পূরণকৃত অ্যাপ্লিকেশান ফর্ম ( অ্যাপ্লিকেশান ফর্ম ডাউনলোড করুন এখান থেকেঃ https://bd.ambafrance.org/Download-the-application-form-for )
  • ২ টি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • ফ্লাইট বুকিং টিকেট (এটা করতে কোন টাকা লাগে না, শুধু বুকিং দিবেন)
  • ভিসা অ্যাপ্লিকেশান ফি (স্কলারশিপ প্রাপ্তদের ফি লাগে না)
  • হেলথ ইস্যুরেন্স (যতদিন এর কোর্স ততদিনের করতে হবে)
  • জন্ম নিবন্ধন
  • সিভি/রিজিউমি
  • সকল একাডেমিক ডকুমেন্টস
  • ইউনিভার্সিটির অফার লেটার
  • স্কলারশিপ লেটার ( যদি পেয়ে থাকেন )
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সল্ভেন্সি (যিনি আপনার সকল খরচ বহন করবেন তার অর্থাৎ স্পন্সরের)
  • হাউজিং সার্টিফিকেট/ডকুমেন্ট ( যদি ফ্রান্সে কোন আত্মীয়ের বাসাকে হাউজিং এর জন্য দেন তাহলে ঐ শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত উনার/উনাদের বাসার সকল কন্ট্রাক্ট পেপার দেখাতে হবে )
  • স্পন্সরের জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট কপি, যা দ্বারা আপনার সাথে উনার সম্পর্ক কি সেটা বুঝায় ( যদি থাকে )
অতিরিক্ত ডকুমেন্টসঃ
  • টিউশন ফি পরিশোধের কপি/প্রমাণ
  • আইইএলটি এস/ফ্রেঞ্চ ভাষা দক্ষতার সার্টিফিকেট ( Alliance française certificates, IELTS, TOEFL )
  • ট্রেনিং সার্টিফিকেট (যদি লাগে)
  • কাজের অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট (যদি লাগে)
কিভাবে ভিসার জন্য আবেদন করবেন
১। আপনার সকল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সঠিকভাবে প্রস্তুত করেন
২। এমব্যাসির Cultural attachée তে এপোয়েন্টমেন্ট এর জন্যে ইমেইল করেন
৩। এপোয়েন্টমেন্ট এর দিন সকল ডকুমেন্টস নিয়ে এমব্যাসিতে সঠিক সময়ে উপস্থিত হন
৪। ঐদিন ই এমব্যাসি আপনাকে একটি ২য় আবশ্যকীয় এপোয়েন্টমেন্ট দিবেন
** ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত ৩ সপ্তাহ সময় লাগে।
পার্ট – টাইম জব ও খরচ সংক্রান্ত তথ্যঃ
ফ্রান্সের আইন অনুযায়ী বিদেশি শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ৯৬৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারবেন। কিন্তু কাজ করে টিউশন ফি ও নিজের খরচ চালানো সম্ভব নয়। পড়াশোনা শেষে জব খোঁজার জন্য আপনি ১ বছরের ভিসা পাবেন। ফ্রান্সে থাকা – খাওয়া বাবদ খরচ একটু বেশি প্রায় ৪০০ – ৭০০ ইউরো, এটা নির্ভর করে শহর, ব্যক্তির লাইফ স্টাইল এর উপর।
Plurennial Residence Card (“Passeport Talent”)
পাসপোর্ট ট্যালেন্ট এর উদ্দেশ্য পল্লনিনিয়াল রেসিডেন্স কার্ড (“পাসেসপোর্ট ট্যালেন্ট”) আন্তর্জাতিক প্রতিভাগুলির ফ্রান্সে প্রবেশের সুবিধা প্রদান করা। এটি বিশেষ করে তরুন গ্র্যাজুয়েট যারা গবেষক, কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা বা ইনোভেটিভ ইকোনমিক প্রোজেক্ট এর ডিজাইনার, ফ্রেঞ্চ টেক প্রোগ্রাম এর অং গ্রহণকারী, আর্টিস্ট, উচ্চ পর্যায়ের অ্যাথলেটদের ইস্যু করা হয়।
এই কার্ডটি আপনি এবং আপনার পরিবারকে ৪ বছরের ভিসা দেয়। এই সময়ের মধ্যে জব করার অধিকার আছে।
স্থায়ী বসবাসের সুযোগ (পিআর):
আপনি একটানা ৫ বছর বৈধভাবে থাকার পর স্থায়ী বসবাসের (পিআর) জন্যে আবেদন করতে পারবেন। অবশ্য এক্ষেত্রে আরও কিছু শর্ত রয়েছে।
ফ্রেঞ্চ এমব্যাসি বাংলাদেশঃ
ফ্রেঞ্চ কালচারাল সেন্টার, ঢাকাঃ
আরও জানুনঃ
ফেসবুক মন্তব্য
Print Friendly, PDF & Email

Mahedi Hasan

Founder at BSCE
স্বপ্নবাজ ও ভ্রমণপিপাসু একজন মানুষ। নতুন কিছু জানতে ও শিখতে ভালো লাগে। নিজে যা জানি তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি।

আমার সম্পর্কেঃ http://www.hmahedi.com
Mahedi Hasan
 
শেয়ার করুনঃ

Mahedi Hasan

স্বপ্নবাজ ও ভ্রমণপিপাসু একজন মানুষ। নতুন কিছু জানতে ও শিখতে ভালো লাগে। নিজে যা জানি তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। আমার সম্পর্কেঃ http://www.hmahedi.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *