চেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সুপারলিগ্যালাইজেশন ও নস্ট্রিফিকেইশনঃ কি, কেন এবং কিভাবে?

চেক প্রজাতন্ত্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে নস্ট্রিফিকেইশন প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকের মনেই বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন থাকে, অনেকেই কনফিউশনে থাকেন। বুঝতে পারেন না যে, কিভাবে নস্ট্রিফিকেইশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। অনেকে আবার সুপারলিগ্যালাইজেশননস্ট্রিফিকেইশন কে একসাথে গুলিয়ে ফেলেন। অনেকে ভাবেন যে, সুপারলিগ্যালাইজেশন আর নস্ট্রিফিকেইশন একই কি না!


তো ভাবলাম বিষয়টি নিয়ে লেখা যাক। আমার এই লেখাটি মূলতঃ সুপারলিগ্যালাইজেশন ও নস্ট্রিফিকেইশন নিয়ে। খুব সহজভাবে বিষয়টি আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব।


প্রথমেই আমরা জেনে নিব যে, সুপারলিগ্যালাইজেশন ও নস্ট্রিফিকেইশন মানে কি এবং কেন করতে হয়?


সুপারলিগ্যালাইজেশন: সুপারলিগ্যালাইজেশন মানে হায়ার ভেরিফিকেইশন (উচ্চতর যাচাই) ও এটেসটেশন (সত্যায়ন)। অর্থাৎ বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ/মন্ত্রণালয়গুলো (শিক্ষা বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) থেকে সত্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ করে চেক এম্বাসি থেকে সত্যায়িত করাকে বলা হয় সুপারলিগ্যালাইজেশন। সহজ করে বললে, চেক এম্বাসি থেকে সত্যায়ন করাকে বলে সুপারলিগ্যালাইজেশন।


সুপারলিগ্যালাইজেশন কেন করতে হয়?
চেক প্রজাতন্ত্রের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে আপনার একাডেমিক ডকুমেন্টস তারা যাচাই করে যে, ডকুমেন্টসগুলো বৈধ/আসল কিনা। তখন তারা আপনার ডকুমেন্টস এম্বাসি কর্তৃক সত্যায়িত কিনা সেটা যাচাই করে। কারণ এম্বাসি কর্তৃক সত্যায়িত না হলে আপনার নস্ট্রিফিকেইশন প্রক্রিয়া শুরু করবে না। অর্থাৎ নস্ট্রিফিকেইশন এর জন্য সুপারলিগ্যালাইজেশন হচ্ছে প্রথম ধাপ। -আবার সুপারলিগ্যালাইজেশন এর জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত না করলে আপনার ডকুমেন্টস তারা সত্যায়িত করবে না। একইভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আপনার ডকুমেন্টস যদি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড অথবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সত্যায়িত না থাকে তাহলে তারাও আপনার ডকুমেন্ট সত্যায়িত করবে না। অর্থাৎ আপনাকে প্রতিটা ধাপে পর্যায়ক্রমে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশের শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কিভাবে ডকুমেন্টস সত্যায়িত করতে হয় সেটা নিয়ে আমার একটি লেখা আছে। সেটি পড়তে পারেন।


এবার চলুন জেনে নেই নস্ট্রিফিকেইশন কি এবং কেন করতে হয়?


নস্ট্রিফিকেইশন কি এবং কেন: নোটিফিকেইশন হলো আপনার শিক্ষাগত ডিগ্রি মূল্যায়ন করা। অর্থাৎ আপনার একাডেমিক ডিগ্রির সাথে চেকের অ্যাক্যাডেমিক ডিগ্রির তুলনা করা। কোর্স কারিকুলাম চেক করা। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের এইচএসসি এর সাথে তাদের স্কুল লিভিং এডুকেশনের তুলনা করা। চেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির একটি অন্যতম শর্ত হচ্ছে এই নস্ট্রিফিকেশন তথা ইভালুয়েশন। আপনার প্রিভিয়াস এডুকেশন এর সাথে তাদের এডুকেশনের সামঞ্জস্যতা থাকলেই কেবল আপনি ভর্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।


নস্ট্রিফিকেইশন দুই ধরনের হয়: ১। ইন্টার্নাল এভালুয়েশন এবং ২। মন্ত্রণালয় কর্তৃক এভালুয়েশন
১। ইন্টার্নাল এভালুয়েশন: এটি সাধারণত ইউনিভার্সিটি কর্তৃক হয়ে থাকে। ইন্টার্নাল এভালুয়েশনে সময় কম লাগে। খরচ ও জটিলতাও কম। তবে দুঃখজনকভাবে সকল চেক বিশ্ববিদ্যালয়কে ইন্টার্নাল এভালুয়েশন এর অথরিটি দেওয়া হয়নি। সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই দ্বিতীয় এভালুয়েশন (মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইভালুয়েশন) প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হবে। ইন্টার্নাল এভালুয়েশন ফি: ৬০০-৮০০ চেক ক্রাউন। এতে সময় লাগতে পারে প্রায় ১০ থেকে ২০ দিন।


২। মন্ত্রণালয় কর্তৃক মূল্যায়ন/এভালুয়েশন: এ প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল, ব্যয়বহুল এবং সময় সাপেক্ষ। এই এভালুয়েশন এর জন্য আপনাকে হয়তো ছোট্টোখাট্টো একটা পরীক্ষা দেয়া লাগতে পারে। এটি মন্ত্রণালয় কর্তৃক হয়ে থাকে। এতে সময় লাগতে পারে প্রায় ১৫ দিন থেকে ২ মাস। এভালুয়েশন ফি: ১০০০ – ৩০০০ চেক ক্রাউন।
বলাবাহুল্য, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে নস্ট্রিফিকেইশন সম্পন্ন হলে তারপরে অফার লেটার ইস্যু করা হয়। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে নস্ট্রিফিকেইশন পরেও করা যায়। উদাহরণস্বরূপ: মাশারেক বিশ্ববিদ্যালয়। মাশারেক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কিছু ফ্যাকাল্টি নস্ট্রিফিকেইশন পরে করে থাকে, আগেই অফার লেটার ইস্যু করে।
অর্থাৎ উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা এটা বুঝতে পারলাম যে, নস্ট্রিফিকেইশন ও সুপারলিগ্যালাইজেশন দুটো ভিন্ন জিনিষ। সুপারলিগ্যালাইজেশন, নস্ট্রিফিকেইশন এর একটি পার্ট।


আশা করি, নস্ট্রিফিকেইশন ও সুপারলিগ্যালাইজেশন সংক্রান্ত আপনাদের সকল কনফিউশন দূর হয়েছে। এ নিয়ে কারো মনে আর কোন প্রশ্ন নেই। তারপরও যদি এ সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে এই পোষ্টের কমেন্ট বক্সে লিখুন। আমি সময় করে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।
সবার জন্য শুভকামনা রইল। আজকের মত আল্লাহ্ হাফেজ!

মেহেদী হাসান

অস্ট্রাভা, চেক প্রজাতন্ত্র

ফেসবুক মন্তব্য
Print Friendly, PDF & Email
Mahedi Hasan
 
শেয়ার করুনঃ

Mahedi Hasan

স্বপ্নবাজ ও ভ্রমণপিপাসু একজন মানুষ। নতুন কিছু জানতে ও শিখতে ভালো লাগে। নিজে যা জানি তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। আমার সম্পর্কেঃ http://www.hmahedi.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Upcoming Events