ধাপে ধাপে সুইডেনে উচ্চশিক্ষা

দেশ পরিচিতিঃ

সুইডেন ইউরোপের একটি অন্যতম আধুনিক ও উন্নত দেশ। এর রাজধানীর নাম স্টকহোম। দেশটির উত্তর – পূর্ব দিকে আছে ফিনল্যান্ড, পশ্চিম দিকে নরওয়ে, দক্ষিণ – পশ্চিম দিকে ওরেসুন্দ সেতু যেটা দিয়ে ডেনমার্ক যাওয়া যায়, সুইডেন স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তম দেশ। এর আয়তন ৪৫০,২৯৫ বর্গ কিঃমিঃ । জনসংখ্যা প্রায় ৯৮৭৫,৩৯৮ । সুইডেনের অফিসিয়াল ভাষা সুইডিশ। মুদ্রার নাম সুইডিশ ক্রুনা। স্বাক্ষরতার হার ৯৯% । শান্ত পরিবেশ, বিশ্বস্বীকৃত গবেষণাকর্ম, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রচুর স্কলারশিপ, গ্রুপ ওয়ার্ক, স্বাধীন চিন্তার সুযোগ এসবের জন্য উচ্চশিক্ষায় বেশ এগিয়ে সুইডেন। বর্তমানে এখানে প্রায় ৮০টি দেশের শিক্ষার্থীরা পিএইচডি গবেষণারত। গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১০-২০১১ এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী সুইডেনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও নিতে পারেন বিশ্বমানের উচ্চতর ডিগ্রি।



শিক্ষার মান ও গ্রহণযোগ্যতাঃ

সুইডিশ ডিগ্রি এর গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বজুড়ে। এখানের শিক্ষার মান খুবই ভাল। বেশ কিছু ইউনিভার্সিটি রয়েছে যেগুলো ওয়ার্ল্ড রেঙ্কিং এ অনেক এগিয়ে।
কিছু টপ রেঙ্কড ইউনিভার্সিটিঃ
( ২০১১ সালের আগে সুইডেনে পড়াশোনা করতে কোন টিউশন ফি লাগত না। কিন্তু ২০১১ সাল থেকে সুইডেনে টিউশন ফি চালু করেছে )

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন ও অন্যান্য তথ্যাবলীঃ

পরিবেশ বিজ্ঞান, ভাষা শিক্ষা, কৃষি গবেষণা ও ইঞ্জিনিয়ারিং এসব বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য সুইডেনকে আদর্শ বলা হয়। তবে এর পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় উল্লেখযোগ্য। বিষয়গুলো হলো এমবিএ, টেলিকমিউনিকেশন, আইন, ম্যাথমেটিক্স, জনস্বাস্থ্য, আর্টঅ্যান্ড ডিজাইন, মেডিক্যাল, অর্থনীতি, ভূগোল, হিউম্যান রিসোর্স, হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট, ফিল্ম ও মিডিয়া, লাইফ সায়েন্স ইত্যাদি।
সুইডেনের অফিসিয়াল ভাষা সুইডিশ হলেও প্রায় ৮৯% মানুষ ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারে। তাই সেখানে ইংরেজিকে সেকেন্ড ল্যাংগুয়েজ বলা হয়। এখানে সুইডিশ ও ইংরেজি উভয়ই মাধ্যমেই পড়াশোনা করা যায়। অনার্স পর্যায়ে সুইডিশ ভাষা জানলে ভালো। তবে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সুবিধা হলো প্রায় ৬০০’র বেশি বিষয় ইংরেজি ভাষায় পড়া যায়। সুইডেনে অনার্স ৩-৪ বছর, মাস্টার্স বিষয় ভেদে ১/২ আবার কোনোটাতে ৩ বছরও লেগে যায়। এ ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন মেয়াদী নন-ডিগ্রি প্রোগ্রাম, ডিপ্লোমা, পিএইচডি, পোস্ট-ডক্টোরাল ও কিছু প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম। National Agency for Higher Vocational Education এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম করানো হয়।
ভর্তির শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ভেদে বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা যাচাই করা হয়। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একাডেমিক ফলাফল দেখে আবার কখনো বা ভাষাগত যোগ্যতা দেখে। সুতরাং ভাষা ও বিগত পরীক্ষাগুলোর ফলাফল উভয়ই ভালো হওয়া দরকার। সুইডিশ ভাষার জন্য আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট (কলাভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে কোর্স করতে পারেন।
ভাষাগত যোগ্যতাঃ আইইএলটিএস ৫.৫ বা বেশি
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসঃ
  • পাসপোর্ট কপি
  • অফার লেটার
  • মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স
  • ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট
  • আপনার নাম উল্লেখপূর্বক স্কলারশিপ লেটার (e.g. student aid), মাসিক অনুদানের পরিমাণ ও সময়কাল
  • এমন ডকুমেন্ট যা প্রমাণ করে আপনি শিক্ষাবৃত্তি পাবেন (শুধুমাত্র ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে) অথবা ডক্টরাল হিসেবে চাকুরীজীবি, অনুদানের পরিমাণ, সময়কালসহ
আপনি যদি কোন ব্যাংক থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন সেটার প্রমাণ।
বিঃ দ্রঃ প্রত্যেক দেশের জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম আছে, তাই ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিবেন। এই ফাইলের একদম নিচের দিকে ওয়েবসাইট গুলো আছে, চেক করে নিন। ( যেমনঃ কোন কোন দেশের ক্ষেত্রে ডকুমেন্টস এর হার্ড কপি পাঠাতে হয় [বাংলাদেশ ], আবার কোন দেশের জন্য অনলাইনে আপলোড দিলেই হয়। তাই, সর্বশেষ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইট ভিজিট করুন )।



আবেদনের সময় : সুইডেনে বছরে দুটি সেমিস্টার। একটির মেয়াদ আগস্টের শেষ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত। অপরটি মধ্য জানুয়ারি থেকে জুন/আগস্ট পর্যন্ত। আবেদন ফি সাধারণত ৯০০ সুইডিশ ক্রুনা । আর টিউশন ফি সাধারণত বছরে ৮০০০০ থেকে ১,৪০০০০ সুইডিশ ক্রুনা লাগে। তবে কিছু কিছু বিষয়ে আরও বেশি লাগে। থাকা – খাওয়ার খরচ বাবদ মাসে ৫০০০ – ৮০০০ সুইডিশ ক্রুনা পর্যন্ত লাগতে পারে।
বিঃদ্রঃ সকল একাডেমিক ডকুমেন্টস অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে। সত্যায়িত কিভাবে করতে হয়, সেটা নিয়ে আলাদা একটা আর্টিকেল আছে পড়ে নিন।
পার্টটাইম জব এবং জব সার্চ ভিসা : সুইডেন সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বছরে প্রায় ৫০০’র বেশি স্কলারশিপ দিয়ে থাকে, যেগুলোর অনেকেই পড়াশোনাসহ থাকার খরচও বহন করে। সুইডেনে পার্ট – টাইম জব সম্পর্কে কোন অফিসিয়ালি সীমাবদ্ধতা নেই। আপনি আপনার পড়াশোনা ঠিক রেখে ( অগ্রাধিকার দিয়ে ) যত ইচ্ছা করতে পারবেন। তবে সাধারণত সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা পার্টটাইম জব করা যায়। পড়াশোনা শেষে আপনি ৬ মাসের জব সার্চ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
স্কলারশিপ : সুইডেনে প্রচুর স্কলারশিপ আছে। The Swedish Institute Study Scholarship এই স্কলারশিপ মূলত অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে দেয়া হয়। এটি প্রায় ৭৫%-১০০% খরচ বহন করে। এর কার্যক্রম মার্চ মাস থেকে শুরু হয়। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করা যায়।
ভর্তি ও ভিসা প্রসেসিংঃ অনলাইনে বা ডাকযোগে জরুরি কাগজপত্র জমা দেয়ার পর স্কলারশিপ পাওয়া সত্ত্বেও একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেশের ব্যাংকে জমা আছে কিনা সেই ব্যাপারে একটা নিশ্চিতপত্র দেখাতে হয়। কেননা, পড়াশোনার বাইরে যে কোনো আপদকালীন সময়ে টাকার প্রয়োজন পড়তে পারে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে সুইডিশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করুন। ভর্তি নিশ্চিত হলে ইন্টারভিউ নিয়ে হাইকমিশন থেকেই ভিসা প্রদান করা হয়।
ব্যাংক সলভেন্সি: মাসে ৮১৯০সুইডিশ ক্রোনা করে ১০ মাসের সমপরিমাণ সুইডিশ ক্রোনা ব্যাংক সলভেন্সি দেখাতে হবে। উল্লেখ্য, বছরে ১০ মাসের খরচ দেখাতে হবে (সূত্রঃ https://goo.gl/9qpUR6 )। নিজের নামে একাউন্ট করে টাকাটা রাখতে হবে। টাকাটা অফার লেটার পাওয়ার পর এমব্যাসি ফেইস এর আগে রাখতে হয়। এ ব্যাপারে আরও জানতে সুইডিশ এমব্যাসিতে যোগাযোগ করুন।
স্পাউস ভিসাঃ আপনি চাইলে স্পাউস এবং সন্তানসহ ভিসা আবেদন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার ব্যাংক সল্ভেন্সিসহ আপনার স্পাউস এর জন্য মাসে ৩৫০০ সুইডিশ ক্রুনা করে ১২ মাসের সমপরিমাণ (১২*৩৫০০) এবং প্রতি বাচ্চার জন্য মাসে ২১০০ সুইডিশ ক্রুনা করে ১২ মাসের সমপরিমাণ (১২*২১০০) ব্যাংক সল্ভেন্সি দেখাতে হবে (সূত্রঃ https://goo.gl/U5XQWa )।
অর্থাৎ ধরুন, আপনি, আপনার স্ত্রি/স্বামী এবং ১ বাচ্চাসহ ভিসার জন্য আবেদন করবেন। তাহলে ব্যাংক সল্ভেন্সি দেখাতে হবেঃ
আপনার- ১০*৮১৯০
স্ত্রি/স্বামী- ১২*৩৫০০
বাচ্চা(১ জন)- ১২*২১০০
এই তিন জনের মোট যা আসে সেটা।
আরও বিস্তারিত জানতে নিচের লিঙ্কে যানঃ



সুইডিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের লিঙ্কঃ
স্কলারশিপ এর জন্য নিচের লিঙ্কে যানঃ
মাইগ্রেশন সংক্রান্ত তথ্য জানতে এই লিঙ্কে যানঃ http://www.migrationsverket.se/English/Private-individuals/Moving-to-someone-in-Sweden.html
বাংলাদেশে অবস্থিত সুইডিশ এমব্যাসি এর ওয়েবসাইট ও ঠিকানাঃ
Welcome to the Embassy of Sweden in Dhaka, Bangladesh.
For general enquiry:
Telephone hours Embassy:
Sunday-Thursday 08.30-16.30.
All visitors need a scheduled appointment prior to visit.
Application for passport for Swedish citizens can be done only after appointment.
Enquires to the Migration Section:
E-mail: ambassaden.dhaka-visum@gov.se
Phone: +880 2 55 66 8525
Mobile: +88 01709654198
Telephone hours for migration section:
Sunday–Thursday 15.00-16.00.
Schengen Visa applications:
Schengen visa applications are submitted to VFS Global.
Sunday–Thursday 09.00 – 14.00 hrs., without prior appointment.
Address:
VFS GLOBAL Sweden Visa Application Centre
Delta Life Tower, 4th Floor , Plot 7, Road 90, Gulshan-2, Dhaka-1212, Bangladesh.
বিঃ দ্রঃ – বাংলা ও ইংরেজি মিশ্রিত লেখার জন্য দুঃখিত।
উৎসঃ https://studyinsweden.se and Wikipedia.
ফেসবুক মন্তব্য
Print Friendly, PDF & Email
 
শেয়ার করুনঃ

Mahedi Hasan

স্বপ্নবাজ ও ভ্রমণপিপাসু একজন মানুষ। নতুন কিছু জানতে ও শিখতে ভালো লাগে। নিজে যা জানি তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। আমার সম্পর্কেঃ http://www.hmahedi.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *