একাডেমিক Transcripts & Certificates ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সত্যায়ন

ইউরোপিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদনের জন্য একাডেমিক ডকুমেন্টস সত্যায়ন একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। সত্যায়িত কীভাবে করবেন বা করতে হবে এই ব্যাপারে প্রতিটা ইউনিভার্সিটি এর ওয়েবসাইটে বিস্তারিত বলা থাকে। ডকুমেন্টসগুলো সাধারণত শিক্ষা বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সবশেষে উক্ত দেশের এমব্যাসি/কনস্যুলেট থেকে সত্যায়ন করতে হয়। এরপরও অনেকেই প্রশ্ন করেন কোন জায়গা থেকে কীভাবে সত্যায়িত করবেন আপনার সার্টিফিকেট বা ডকুমেন্টগুলো। সেই প্রশ্নগুলোর আলোকে আজকের লেখা। এখানে বলে রাখা ভাল যে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে Higher education entrance qualification / School living certificate / High School living certificate শব্দগুলো লেখা থাকে, যেটা নিয়ে প্রায় সবাই চিন্তিত থাকি বা বুঝিনা। আসলে সবগুলোর অর্থ মূলত একই। এইটার মানে হচ্ছে আমাদের দেশের HSC Certificate and Transcript। 
লক্ষণীয় বিষয়ঃ আপনি যদি বিদেশে পড়তে আগ্রহী থাকেন তাহলে কোন ভাবেই আপনার সার্টিফিকেট লেমিনেটেড করা যাবে না ।যদি কেউ করে থাকেন তাহলে সেটা তুলে ফেলার চেষ্টা করুন । নিলক্ষেত থেকে তুলতে পারবেন কোন সমস্যা ছাড়াই তবে ভালো করে দরদাম করে নিবেন ৫০ - ১০০ টাকা লাগতে পারে ।  অরিজিনাল ডকুমেন্টস এর সাথে ফটোকপি জমা দিতে হয়। সাধারণত অরিজিনাল কপির পেছনে ও ফটোকপির সামনে সত্যায়ন করে থাকে।



শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ,পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এমব্যাসি/কনস্যুলেট থেকে সত্যায়ন সম্পর্কে বিস্তারিতঃ
শিক্ষা বোর্ড থেকে সত্যায়নঃ
আপনি প্রয়োজনীয় একাডেমিক ডকুমেন্টস ( SSC & HSC Transcript and Certificate ) এর অরিজিনাল সহ ৪ সেট ফটোকপি নিয়ে আপনার শিক্ষা বোর্ড এ যাবেন। তারপর সেখান থেকে একটি ফর্ম পূরণ করে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ব্যাংক ড্রাফ্‌ট করবেন শিক্ষা বোর্ডের সোনালী ব্যাংক থেকে। তারপর ওখান থেকে একটা রিসিপ্ট পাবেন ঐ রিসিপ্ট এবং ফর্ম সহ আপনার সকল ডকুমেন্টস জমা দিবেন। সত্যায়িত করতে সাধারণত ৭ – ১০ দিন সময় নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সত্যায়নঃ
আপনি ব্যাচেলর/মাস্টার্স এর সনদপত্র ও নম্বরপত্র আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার থেকে সত্যায়ন করবেন। উল্লেখ্যঃ কোন কোন বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সেটা সহকারি রেজিস্ট্রার/কন্ট্রোলার/সহকারি কন্ট্রোলার দিয়ে করালেও গ্রহণ করে। তাই, অবশ্যই আগে আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও এডমিশন অফিসে মেইল করে জেনে নিবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়নঃ
আপনাকে প্রথমে ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ সচিবালয়ে যেতে হবে। সচিবালয়ের গেট নং ০২, কাউন্টার নং ১০ ( যদি পল্টন মোড় থেকে আসতে থাকেন, তাহলে জিরো পয়েন্ট মোড় থেকে ডানে যেতে হবে )। মূল কাগজের সাথে যত লাগবে তত ফটোকপি দিতে পারেন। সকাল ১০ – ১১.৩০ পর্যন্ত ডকুমেন্টস জমা নেয়। তবে আপনাকে কিছুটা সময় আগেই যেতে হবে কারণ অনেক সময় বড় লাইন থাকে। ঐ দিনই দুপুর ৩ টা এর দিকে ডকুমেন্টস ফেরত দেয়া শুরু করে। তবে বের হবার আগে অবশ্যই দেখে নিবেন সিল ও সাক্ষর ঠিকমতো আছে কিনা, নাহলে সকল কষ্টই বৃথা।
**একজন ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতার আলোকে, ডিপ্লোমা এর ক্ষেত্রে ইন্সটিটিউটের মার্কশীট প্রথমে ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার এর অফিস থেকে ফরম ফিল আপ করে প্রিন্সিপাল থেকে সত্যায়িত করে নিয়ে বাকি বোর্ডের পরীক্ষার ট্রান্সক্রিপ্ট গুলোসহ ইন্সটিটিউটের গুলোর সাথে নিয়ে কারিগরি বোর্ড থেকে সত্যায়িত করে নিতে হবে। তারপর সবগুলো নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ড (পরিবহন ভবনের আট তলা) থেকে করতে হবে।**
বিঃদ্রঃ কারিগরি বোর্ডের ও মাদ্রাসা বোর্ডের ডকুমেন্টস সত্যায়িত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা নিবে না। কারিগরি বোর্ডের এবং মাদ্রাসা বোর্ডের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ভবনের আট তলায় যেতে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়নঃ
পল্টন মোড় থেকে প্রেসক্লাব মোড় চলে গেলে, প্রেসক্লাবের ঠিক বিপরীতে রাস্তার সাথেই পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। সকাল ৭.৪৫ এ টায় উপস্থিত থাকবেন। ৯টায় নেয়া শুরু করবে। ভালই ভিড় হয়। দুটো কাউন্টার আছে। Counter A & Counter C. আমাদের কাউন্টার সি। কাউন্টার সি তে দুটি বুথে জমা নেয় হয়। ১২ কপি এর বেশী নেয় না। অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসর্পোট এর ফটোকপি নিয়ে যাবেন। একজনের টা অন্যজন দেয়া যায়, যার কাগজ জমা দিচ্ছেন তার জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসর্পোট এর ফটোকপি নিয়ে যাবেন। ঐ দিনই দুপুর ৩.৩০ এর দিকে ফেরত দেয়া শুরু করবে। বের হবার আগে অবশ্যই দেখে নিবেন সিল, সিরিয়াল নং ও সাক্ষর ঠিকমতো আছে কিনা, নাহলে সকল কষ্টই বৃথা। পুরোটাই আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে লেখা। কারো ব্যতিক্রম থাকতে পারে।



পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটঃ
আপনি আপনার নিজ থানা থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করবেন। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সাধারণত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত হয়েই আসে। তারপরও যদি আপনার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত না থাকে তবে করে নিবেন। এতে সময় লাগবে ৭-১৫ দিন। উল্লেখ্য, বর্তমানে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এর জন্য অনলাইনেই আবেদন করা যায় এবং বাসায় বসেই সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। বিস্তারিত জানতে অনলাইনে আবেদনের ফাইলটা পড়তে পারেন।
জন্ম নিবন্ধনঃ
আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধন পত্র টি প্রথমে ইংরেজিতে অনুবাদ করে নিবেন ( যদি করা না থাকে )। তারপর সেটা নোটারি করে আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন করবেন।
***** সবশেষে সকল সত্যায়িত ডকুমেন্টস আপনার পছন্দের দেশের এমব্যাসি/কনস্যুলেট থেকে সত্যায়ন করবেন।
সতর্কবাণীঃ যে কোন প্রক্রিয়া শুরুর আগে আপনি আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও এডমিশন অফিসে মেইল করে কোন কোন ডকুমেন্টস কোথায় সত্যায়ন করবেন সেটা বিস্তারিত জেনে নিবেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ যদি আপনার সার্টিফিকেট সত্যায়িত করতে হয় ফরেইন মিনিষ্ট্রি থেকে তবে খেয়াল রাখুনঃ প্রথমে, ডকুমেন্টগুলো এডুকেশন বোর্ড থেকে সত্যায়িত করতে হবে। আপনি ঢাকাতে থাকলেও যদি চট্টগ্রাম বোর্ড থেকে পাশ করেন, তাহলে আপনাকে চট্টগ্রাম বোর্ডে যেতে হবে। এডুকেশন বোর্ড সত্যায়িত করলেই তা এডুকেশন মিনিষ্ট্রি সত্যায়িত করবে। আর শুধুমাত্র এডুকেশন মিনিষ্ট্রি সত্যায়িত করলেই তা ফরেইন মিনিষ্ট্রি সত্যায়িত করবে।
এই হল সত্যায়নের নিয়ম. আশা করি এরপর থেকে কারো সত্যায়িত করা নিয়ে কোন সমস্যা হবে না।
আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা। আপনারা মন্ত্রণালয় গুলোতে যাওয়ার আগে দয়া করে ওয়েবসাইট দেখে নিবেন। কারণ সময় ও নিয়ম যে কোন সময় পরিবর্তন হতে পারে।
ওয়েবসাইট সমূহঃ
শিক্ষা মন্ত্রনালয়ঃ http://www.moedu.gov.bd
পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ঃ http://www.mofa.gov.bd
সূত্রঃ MoFA , dhakaeducationboard
ফেসবুক মন্তব্য
Print Friendly, PDF & Email
 
শেয়ার করুনঃ

Mahedi Hasan

স্বপ্নবাজ ও ভ্রমণপিপাসু একজন মানুষ। নতুন কিছু জানতে ও শিখতে ভালো লাগে। নিজে যা জানি তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। আমার সম্পর্কেঃ http://www.hmahedi.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


php shell download
istanbul escort